পৃথিবীর স্থলভাগের আনাচে-কানাচে মানুষের বিচরণ থাকলেও, সমুদ্রের গভীর তলদেশ আজও আমাদের কাছে এক অজানা রহস্য। সেই রহস্যের জট খুলতে গিয়েই বিজ্ঞানীরা আজ এক অভাবনীয় সাফল্যের মুখ দেখেছেন। প্রশান্ত মহাসাগরের (Pacific Ocean) গভীর তলদেশে পরিচালিত এক দীর্ঘ গবেষণায় গবেষকরা এমন এক 'লুকানো বাস্তুতন্ত্রের' (Hidden Ecosystem) সন্ধান পেয়েছেন, যেখানে বসবাস করছে ৮০০-রও বেশি সম্পূর্ণ অজানা প্রজাতির সামুদ্রিক প্রাণী।
অভিযানের নেপথ্যে
আজকের এই যুগান্তকারী ঘোষণাটি এসেছে একটি আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক গবেষণা দলের কাছ থেকে। গত ৫ বছর ধরে প্রশান্ত মহাসাগরের প্রত্যন্ত ও গভীরতম অংশগুলোতে তাঁরা অনুসন্ধান চালাচ্ছিলেন। প্রায় ১৬০ দিন গভীর সমুদ্রে অবস্থান করে তাঁরা এই তথ্য সংগ্রহ করেন। মূলত, গভীর সমুদ্রে খনিজ আহরণ বা 'ডিপ-সি মাইনিং' (Deep-sea mining) শুরু হওয়ার আগে সেখানকার জীববৈচিত্র্য বোঝার জন্যই এই অভিযানটি চালানো হয়েছিল।
কী পাওয়া গেছে?
গবেষকরা জানিয়েছেন, আবিষ্কৃত এই ৮০০টি প্রজাতির মধ্যে এমন অনেক অদ্ভুত প্রাণী রয়েছে যা বিজ্ঞান এর আগে কখনো দেখেনি। এর মধ্যে রয়েছে:
বিচিত্র সব স্পঞ্জ ও কোরাল: যারা সূর্যালোক ছাড়াই গভীর অন্ধকারের মধ্যে বেঁচে আছে।
অজানা অমেরুদণ্ডী প্রাণী: জেলিফিশ ও কৃমিজাতীয় এমন কিছু প্রাণী যা দেখতে অনেকটা ভিনগ্রহের প্রাণীর মতো।
লুকানো এক খাদ্যজাল: বিজ্ঞানীরা অবাক হয়ে দেখেছেন যে, এই প্রাণীগুলো প্লাস্টিক দূষণ এবং চরম প্রতিকূল পরিবেশেও নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে।
কেন এই আবিষ্কারটি গুরুত্বপূর্ণ?
এই আবিষ্কারটি বিজ্ঞানের জন্য একটি বড় মাইলফলক, কারণ: ১. জীববৈচিত্র্যের নতুন দিগন্ত: এটি প্রমাণ করে যে আমরা আমাদের গ্রহের প্রাণীদের সম্পর্কে খুব সামান্যই জানি। ২. খনিজ আহরণে সতর্কতা: প্রশান্ত মহাসাগরের এই অঞ্চলটিতে প্রচুর পরিমাণে মূল্যবান ধাতু রয়েছে যা ব্যাটারি তৈরির জন্য ব্যবহৃত হয়। তবে এই নতুন প্রজাতির আবিষ্কারের ফলে এখন সেই অঞ্চলে খনিজ আহরণের আগে পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন যে, না বুঝে খনিজ উত্তোলন করলে এই 'গুপ্ত জগৎ' চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে।