জনমুখী বাজেটে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বৃদ্ধি, পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ডিএ জটের সমাধানের পথে রাজ্য |

6th February 2026 10:26 am Country News
জনমুখী বাজেটে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বৃদ্ধি, পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ডিএ জটের সমাধানের পথে রাজ্য |


কলকাতা, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: আজ রাজ্য রাজনীতি এবং সাধারণ মানুষের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দুটি প্রধান ঘটনা—পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেট পেশ এবং রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতার (DA) মামলায় সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক নির্দেশ। একদিকে সাধারণ মানুষের জন্য একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের ঘোষণা, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের আইনি লড়াইয়ের পর কর্মচারীদের আংশিক জয়ের খবর—সব মিলিয়ে আজকের দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

বাজেটে বড় চমক: বাড়ল লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের অনুদান
গতকাল বিধানসভায় বাজেট পেশ করেন রাজ্যের অর্থ প্রতিমন্ত্রী (স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত) চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। লোকসভা নির্বাচনের আগে এই বাজেটকে রাজনৈতিক মহলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এবারের বাজেটের প্রধান আকর্ষণ ছিল 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার' প্রকল্প।

ভাতা বৃদ্ধি: বাজেটে ঘোষণা করা হয়েছে যে, এই প্রকল্পের আওতায় মাসিক অনুদান ৫০০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। অর্থাৎ, সাধারণ বর্গের মহিলারা এখন থেকে ১,০০০ টাকার পরিবর্তে ১,৫০০ টাকা এবং তফশিলি জাতি ও উপজাতি ভুক্ত মহিলারা ১,২০০ টাকার পরিবর্তে ১,৭০০ টাকা পাবেন।

কর্মসংস্থান: বাজেটে সিভিক ভলান্টিয়ার এবং ভিলেজ পুলিশদের জন্যও সুখবর রয়েছে। তাঁদের ভাতাও বৃদ্ধি করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, রাজ্য পুলিশে নতুন নিয়োগের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।

কেন্দ্রের বঞ্চনার অভিযোগ: বাজেট পেশের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিক সম্মেলনে দাবি করেন, কেন্দ্রের আর্থিক বঞ্চনা সত্ত্বেও রাজ্য সরকার সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে একটি 'জনমুখী' বাজেট পেশ করেছে।

ডিএ (DA) মামলায় সুপ্রিম কোর্টের বড় রায়
বাজেটের খুশির আমেজের মধ্যেই রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য এল স্বস্তির খবর। বকেয়া ডিএ মামলায় সুপ্রিম কোর্ট রাজ্য সরকারকে কড়া নির্দেশ দিয়েছে।

২৫ শতাংশ মেটানোর নির্দেশ: সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কারোল এবং বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রের বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ অবিলম্বে মিটিয়ে দিতে হবে।

সময়সীমা: এই বকেয়া টাকার একটি অংশ আগামী ৬ মার্চের মধ্যে এবং বাকি অংশ ৩১ মার্চের মধ্যে পরিশোধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কমিটি গঠন: বকেয়া ডিএ-র সঠিক অঙ্ক নির্ধারণ এবং পেমেন্ট শিডিউল তদারকি করার জন্য সুপ্রিম কোর্ট একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রা।

মিশ্র প্রতিক্রিয়া
আজকের এই জোড়া খবরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে মহিলারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা বাড়ায় খুশি। অন্যদিকে, সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ সহ সরকারি কর্মচারীদের সংগঠনগুলি সুপ্রিম কোর্টের রায়কে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, এটি তাদের দীর্ঘ আন্দোলনের নৈতিক জয়। তবে, রাজ্যের কোষাগারের ওপর এই জোড়া আর্থিক চাপ কীভাবে সামলানো হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অর্থনীতিবিদদের একাংশ।

সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শুরুতেই রাজ্য রাজনীতিতে বড়সড় প্রভাব ফেলল এই বাজেট এবং আদালতের রায়।





Others News

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |


বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যখন শক্তির তীব্র সংকট এবং জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া, তখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জগৎ থেকে একটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক খবর সামনে এসেছে। সৌর বিদ্যুতের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা এমন এক অসামান্য সাফল্য অর্জন করেছেন, যা আগামী দিনে পৃথিবীর শক্তির চাহিদা মেটানোর চিত্রটাই বদলে দিতে পারে।

যুগান্তকারী আবিষ্কারটি কী?

দশকের পর দশক ধরে আমরা যে সাধারণ 'সিলিকন' সোলার প্যানেল ব্যবহার করে আসছি, তার বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা (efficiency) সাধারণত ২০% থেকে ২৪%-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি ট্যান্ডেম পেরভস্কাইট-সিলিকন (Tandem Perovskite-Silicon) নামক এক নতুন প্রযুক্তির সোলার সেল তৈরি করেছেন, যা সৌরশক্তিকে বিদ্যুতে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে ৩৪%-এরও বেশি কার্যকারিতা দেখাতে সক্ষম হয়েছে। এটি সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তির ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য লাফ।

কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ?

এই নতুন প্রযুক্তির প্রভাব সুদূরপ্রসারী:

  • অল্প জায়গায় বেশি বিদ্যুৎ: এই প্যানেলগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি সৌরশক্তি শোষণ করতে পারে। ফলে, শহরাঞ্চলে যেখানে বাড়ির ছাদে জায়গা কম থাকে, সেখানে অল্প প্যানেল ব্যবহার করেই অনেক বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

  • পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন রোধ: জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, খনিজ তেল) পোড়ানোর ফলে যে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবেশে মেশে, এই প্রযুক্তি তার একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। এটি বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming) কমাতে সরাসরি সাহায্য করবে।

  • বৈদ্যুতিক যানবাহনের বিপ্লব: যেহেতু এই সেলগুলো ছোট জায়গায় বেশি শক্তি তৈরি করতে পারে, তাই আগামী দিনে বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) ছাদে এই ধরনের প্যানেল লাগিয়ে চলাকালীন অবস্থাতেই গাড়ি চার্জ করার সম্ভাবনা অনেক গুণ বেড়ে যাবে।