এই ব্রা স্তন ক্যান্সারের আগাম বার্তা দেবে

12th December 2023 8:44 am Country News
এই ব্রা স্তন ক্যান্সারের আগাম বার্তা দেবে


নীরব ঘাতকের নাম ক্যান্সার। নারীদের জন্য স্তন ক্যান্সার মারাত্মক। শহর কিংবা গ্রাম নির্বিশেষে, ৩০-৪০ বছর কিংবা এর চেয়েও কম বয়সিরা আক্রান্ত হচ্ছেন এই রোগে। কিন্তু রোগ নির্ধারণ, কাউন্সেলিং, চিকিত্‍সা, সব কিছুতেই এখনও পিছিয়ে আছে আমাদের দেশ।তাছাড়া লজ্জার অজুহাতে স্তনের সমস্যা গোপন করেন বেশিরভাগ নারীরা।তাই সমস্যা বড় হওয়ার আগে সনাক্ত করা সম্ভব হয় না। এবার পরীক্ষা না করেই স্তন ক্যান্সারের আগাম সংকেত পাওয়ার একটা উপায় আবিস্কৃত হয়েছে।চিকিত্‍সকদের একাংশের মতে, ৫০ বছরের উপর বয়স না হলে ম্যামোগ্রাম টেস্ট করা উচিত নয়। এর কারণ হিসাবে রেডিয়েশনের কুপ্রভাবের বিষয়টি সামন আনেন তারা। তাছাড়া ম্যামোগ্রাম পরীক্ষায় বড় অংকের খরচ হয়। । এই খরচের ফলে অনেকে পরীক্ষা করাতে চান না। তবে প্রতিবেশী দেশ ভারতের কেরালার একদল বিজ্ঞানী এই সমস্যার একটা সমাধন বের করেছেন।সেন্টার ফর মেটেরিয়ালস ফর ইলেকট্রনিকস টেকনোলজি (সি-মেট) একটি যন্ত্র আবিষ্কার করেছে। এটি আসলে একটা অন্তর্বাস বা ব্রা। এই ব্রা-তে রয়েছে সেন্সর। যেটি থার্মাল ইমেজিংয়ের মাধ্যমে স্তনে ক্যানসার আক্রান্ত কোষকে শনাক্ত করতে পারে। এই যন্ত্র উদ্ভাবনের জন্য প্রকল্পের চিফ ইনভেস্টিগেটিং অফিসার এ. সীমা সম্প্রতি রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে নারী শক্তি পুরস্কার পেয়েছেন। পরিধেয় বক্ষবন্ধনীর সঙ্গে থার্মাল ইমেজিং যোগ করে ২০১৪ সালে এই যন্ত্রটি উদ্ভাবন করেন বিজ্ঞানীরা।পরবর্তী ৪ বছর ধরে মালাবারে এই বিশেষ বক্ষবন্ধনীর পরীক্ষামূলক ব্যবহার শুরু হয়। স্তনের ত্বকের তাপমাত্রা দেখে এই সেন্সর কোনোরকম অস্বাভাবিকতা থাকলে সেটা সঙ্গে সঙ্গে ধরে ফেলে এবং জানিয়ে দেয়। এই ব্রাতে কোনো রেডিয়েশনের ব্যাপারও নেই। কারণ ত্বকের তাপমাত্রা দেখেই এই যন্ত্র কাজ করে। এটি পোর্টেবলও, একটা ছোট সুটকেসেই রাখা যায়। এই ব্রা পরলে কোনো ব্যথা হয় না; পরার সময় পোশাকও বদলাতে হয় না। ফলে গ্রামাঞ্চলে রক্ষণশীল পরিবেশেও কাজ করা যায় সহজেই।১১৭ জন রোগী ও ২০০ জন স্বেচ্ছাসেবীর উপরে ইতিমধ্যেই এটি পরীক্ষা করা হয়েছে। যে কোনো বয়সের নারীর স্তন পরীক্ষা করা যায় এই যান্ত্রিক ব্রা দিয়ে। 





Others News

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |


বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যখন শক্তির তীব্র সংকট এবং জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া, তখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জগৎ থেকে একটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক খবর সামনে এসেছে। সৌর বিদ্যুতের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা এমন এক অসামান্য সাফল্য অর্জন করেছেন, যা আগামী দিনে পৃথিবীর শক্তির চাহিদা মেটানোর চিত্রটাই বদলে দিতে পারে।

যুগান্তকারী আবিষ্কারটি কী?

দশকের পর দশক ধরে আমরা যে সাধারণ 'সিলিকন' সোলার প্যানেল ব্যবহার করে আসছি, তার বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা (efficiency) সাধারণত ২০% থেকে ২৪%-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি ট্যান্ডেম পেরভস্কাইট-সিলিকন (Tandem Perovskite-Silicon) নামক এক নতুন প্রযুক্তির সোলার সেল তৈরি করেছেন, যা সৌরশক্তিকে বিদ্যুতে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে ৩৪%-এরও বেশি কার্যকারিতা দেখাতে সক্ষম হয়েছে। এটি সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তির ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য লাফ।

কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ?

এই নতুন প্রযুক্তির প্রভাব সুদূরপ্রসারী:

  • অল্প জায়গায় বেশি বিদ্যুৎ: এই প্যানেলগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি সৌরশক্তি শোষণ করতে পারে। ফলে, শহরাঞ্চলে যেখানে বাড়ির ছাদে জায়গা কম থাকে, সেখানে অল্প প্যানেল ব্যবহার করেই অনেক বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

  • পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন রোধ: জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, খনিজ তেল) পোড়ানোর ফলে যে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবেশে মেশে, এই প্রযুক্তি তার একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। এটি বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming) কমাতে সরাসরি সাহায্য করবে।

  • বৈদ্যুতিক যানবাহনের বিপ্লব: যেহেতু এই সেলগুলো ছোট জায়গায় বেশি শক্তি তৈরি করতে পারে, তাই আগামী দিনে বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) ছাদে এই ধরনের প্যানেল লাগিয়ে চলাকালীন অবস্থাতেই গাড়ি চার্জ করার সম্ভাবনা অনেক গুণ বেড়ে যাবে।